পবিত্র শবে-ই কদরের নফল নামাজের নিয়ম ও এর দোয়া, নিয়ত সহ ফজিলত

sob-e-kodor-ar-namaj

স্কাইমুন আইটি সলিউশন এর পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই । দেখতে দেখতে রমজান মাস অতিবাহিত হতে চলেছে । হাদিসে বর্ননা আছে যে, শেষ দশকের বিজোড় রাত্রি গুলো মধ্যে কোন একটিতে শবে-ই কদর হয়ে থাকে । তাই আমরা সকলেই চেষ্টা করবো যেন শেষ দশকের বিজোড় রাত্রি গুলোতে নফল ইবাদত করার । আমরা যারা শবে-ই কদর সম্পর্কে কম জানি তাদের জন্য শবে-ই কদর সম্পর্কে কিছু কথা শেয়ার করছি ।

শবে-ই কদর কি ?

শবে-ই কদর হল সেই রাত , যে রাতে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আল-আমিন পবিত্র কোরআন নাজিল করেন । আর তা মনোনিত করেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নবী  হয়রত মোহাম্মদ (সা:) এর উপর । তাই এই রাতের ফজিলত অনেক বেশি ।

শবে-ই কদর কবে ?

শবে-ই কদর ঠিক কবে তা হযরত মোহাম্মদ (সা:) আল্লাহর নিকট হতে জেনে আসার পর তা উম্মদদের জানান নি । তিনি বলেছেন , রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রি গুলোর মধ্যে যে কোন একটি রাত্রিতে পবিত্র কোরআন নাজিল করা হয়েছে । তাই রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রির প্রতিটিকে শবে-ই কদরের রাত বলা হয় ।

 শবে-ই কদরের ফজিলত :

শবে-ই কদরের রাত্রিতে আল্লাহ অনেক ফজিলত রেখেছেন । পবিত্র কোরআনে এসেছে এই এক রাত্রির নফল ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম । যে ব্যক্তি এই রাত্রিতে নফল নামাজ আদায় করবে, কোরআন তিলওয়াত করবে এবং দোয়া জীকির এর মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করবে তাকে মহাল আল্লাহ্  এক হাজার রাত্রি ইবাদত করলে যে নেকি পাওয়া যায় সে পরিমান নেকি দান করবেন । এই রাত্রিতে আল্লাহর কাছে যা নেক মনে চাইবেন আল্লাহ্ তা পূরন করবেন ।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন – ”যে ব্যাক্ত মাহে রমজান পাইলো আর শবে-ই কদর পাইলো কিন্তু তার গুনাহ্ মাফ করাইতে পারলো না সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক ।”

 এই রাত্রির পুরস্কার আল্লাহ্ রা্ব্বুল আল-আমিন নিজ হাতে দিবেন ।

শবে-ই কদরের নামাজ :

বিভিন্ন হাদিসের কিতাবে নুন্যতম ১২ রাকাত নফল নামাজের কথা বলা হয়েছে । ২ রাকাত করে নামাজ আদায় করতে হবে । ৪ রাকাত পর পর দোয়া করতে হবে । এভাবে ১২ রাকাত থেকে শুরু করে ১০০ রাকাত পর্যন্ত আদায় করতে পারবেন । রাত্রি ১২ টার পর থেকে সেহেরীর আগ পর্যন্ত নফল নামাজ, কোরআন তিলওয়াত ও জীকির করতে পারবেন ।

নামাজের নিয়ত :

নয়াইতুয়ার উসাল্লি লিল্লাহি তায়ালা রাকাতি ছালাতি লাইলাতুল কদর নফলি মুতাওয়াজ্জিহান ইলাহ্ জিহাতিল কাবাতিশ শরীফাতি আল্লাহ্ হুআকবার ।

নামাজের এর নিয়ম :

নামাজের নিয়ম সাধারন নফল নামাজের মতই । প্রথম ২ রাকাত করে ৪ রাকাতের জন্য : নিয়ত করে হাত বেধে ছানা পাঠ করে সূরা ফাতিহা তিলওয়াত করতে হবে । এরপর সূরা কদর ১ বার এরপর সূরা ইখলাস ১০ বার তিলওয়াত করতে হবে । বাকী নামাজ সাধারন নামাজের মতই ।

দ্বিতীয় ২ রাকাত করে ৪ রাকাতের জন্য : নিয়ত করে হাত বেধে ছানা পাঠ করে সূরা ফাতিহা তিলওয়াত করতে হবে । এরপর সূরা কদর ১ বার এরপর সূরা ইখলাস ২৫ বার তিলওয়াত করতে হবে । বাকী নামাজ সাধারন নামাজের মতই ।

তৃতীয় ২ রাকাত করে ৪ রাকাতের জন্য : নিয়ত করে হাত বেধে ছানা পাঠ করে সূরা ফাতিহা তিলওয়াত করতে হবে । এরপর সূরা কদর ১ বার এরপর সূরা ইখলাস ৫০ বার তিলওয়াত করতে হবে । বাকী নামাজ সাধারন নামাজের মতই ।

প্রতি ৪ রাকাতের পর পর দরুদ শরীফ কয়েকবার পাঠ করে দোয়া করতে হবে ।

জীকির ও কোরআন তিলওয়াত :

নামাজ আদায়ের পর কিছু সময় কোরআন তিলওয়াত করতে পারেন । জীকির করতে পারেন । সুবহানাল্লাহ্ , আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ , আল্লাহ্  । এসব জীকির করতে পারেন ।

আল্লাহ আমাদের সকলকে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন । আমিন ।

কোন কিছু ভুল হলে আল্লাহ যেন মাফ করে দেন ।

সবাই সকলের সাথে শেয়ার করুন গল্পের মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে । ইসলামের প্রচার করুন ।

আল্লাহ্ হাফেজ

Share To Social Site To show your Friend