রোজা কি ? রোজা ভঙ্গের কারন ও রোজা না রাখার অনুমতির কারন সমূহ জেনে নিই

roja-broken-couse

স্কাইমুন আইটি সলিউশন এর পক্ষ থেকে সকলকে পবিত্র মাহে রমজান মাসের শুভেচ্ছা । মুসলিমদের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ । আমাদের সকলের জেনে রাখা উচিৎ – কিভাবে রোজা রাখলে মহান আল্লাহ্ খুশি হবেন এবং কি কি কাজ করলে  রোজা ভেঙ্গে যেতে পারে । আসুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নিই ।

সাওম বা রোজা কি  ?

সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা ।  মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে সুবহি সাদিকের সময় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকা এবং পঞ্চইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাই হল সাওম বা রোজ ।

রোজা ভঙ্গের কারন:

ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার  ও ধূমপান করলে:

কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় কোন প্রকার পানাহার বা ধূমপান করে তাহলে নিঃসন্দেহে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে । ডুবে ডুবে জল খাওয়ার মতো করে যদি কেউ সবার অজান্তে লুকিয়ে পানাহার করে সেক্ষেত্রেও রোজা ভেঙ্গে যাবে।  আল্লাহ তাআলা  কোন কিছুই অজানা নয় ।

ওজু করার সময় পানি খেয়ে ফেললে :

ওযু করার সময় গড়গড়া করা যাবে না : ওযু করার সময়ও খেয়লা রাখতে হবে। গড়গড়া করা যাবে না। আর নাকে পানি দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন পানি ভেতরে চলে না যায় । ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি ঢোকালে রোজা ভেঙ্গে যাবে

বমি করলে :

ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে  রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, বমি করার পর সমস্ত মুখ ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করে ধুয়ে নিতে হবে যেন মুখের কোথাও বিন্দুমাত্র খাবারের কণা জমে না থাকে। সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেন – ‘যে ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম কাযা করতে হবে না। কিন্তু যে স্বেচ্ছায় বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম অবশ্যই কাযা করতে হবে (আবূ দাউদ)

ইনজেকশন নিলে :

ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করার জন্যে কিংবা অন্য কোন কারণে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করানো হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ নিতেই হবে নয়তো বড়সড় কোন সমস্যা হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে কথা ভিন্ন। ব্যাপারে একাধিক মতামত রয়েছে। ইনজেকশন যদি এমন হয় যে তাহলে শরীরের বল বৃদ্ধি করবে (যেমন গ্লুকোজ) তাহলে সে জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহারে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ খাবার যেই কাজ করে এক্ষেত্রে অনেকটা একই কাজ করছে এটি। তবে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যে যদি ইনজেকশন দেয়া হয় (যেমন ইনসুলিন, পেনিসিলিন) তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না।

এছাড়া দাঁতে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় খাদ্যদ্রব্য গিলে ফেললে, বমি মুখে আসার পর গিলে ফেললে, রাত্রি আছে মনে করে পানাহার করলো, কিন্তু দেখা গেলো সুবহে সাদিক হয়ে গিয়েছে, মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হলে। এসব ক্ষেত্রে রোজার কাযা আদায় করতে হবে ।

ঋতুস্রাব হলে :

রোজা রাখা অবস্থায় যদি মহিলাদের মাসিকের রক্ত দেখা দেয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এমনিভাবে প্রসবজনিত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে কয়টি রোজা নষ্ট হবে সে কয়টি পরে কাজা করে নিতে হবে।

হস্তমৈথুন করলে :

হস্তমৈথুন বা অন্য কোনভাবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তা রোজা ভঙ্গের কারণ হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ কামভাবে স্ত্রীকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও বীর্যপাত ঘটায় তাহলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে।

স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে :

রোজা রাখা মানে শুধু পানাহার থেকে না, ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকেও নিজেকে বিরত রাখা। সেই অর্থে রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ সহবাস করে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এক্ষেত্রে তাকে কাজা কাফফারা দুটোই করতে হবে।

যে সকল কাজ করলে রোজা ক্ষতিগ্রস্থ হবে :

# মিথ্যা কথা বললে

# চুরি করলে

# চোখ দিয়ে খারাপ বা অশ্লিল কিছু দর্শন করলে

# খারাপ কাজ করলে

যে সকল কাজ করলে রোজা ভাঙবে না

সুরমা ব্যবহার করলে :

সুরমা ব্যবহার করলে চোখে বা কানে ঔষধ ব্যবহার করলে সিয়াম নষ্ট হয় না, যদিও তার স্বাদ অনুভূত হয়। কোন কিছুর স্বাদ অনুভূত হলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। কোন কিছুর স্বাদ পরীক্ষা করার কারণে সিয়াম ভঙ্গ হয় না, যদি না তা গিলে ফেলে। কোন কিছুর ঘ্রাণ নিলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না ।

অনিচ্ছাকৃত ভাবে কোন কিছু খেয়ে ফেললে :

অনিচ্ছাকৃত ভাবে পানি খেয়ে ফেলে বা অন্য কোন খাবার খেয়ে ফেলে তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। খাওয়ার সময় যদি মনে পরে যে ব্যক্তি রোজা ছিলো, তাহলে মুখের খাবার ফেলে দিতে হবে। এছাড়া যতটুকু অজান্তে খেয়ে ফেলেছে ততটুকুর জন্যে রোজা ভাঙ্গবে না।

বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেন– ‘যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার করে তবে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়, কেননা, আল্লাহ তায়ালাই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’ (অর্থাৎ এতে তার রোযা ভাঙ্গেনি) –(বোখারিও মুসলিম শরিফ)

স্বপ্নদোষ হলে :

স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে স্বপ্নদোষ হয়েছে এমনটা বোঝামাত্রই ফরজ গোসল করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে ।

রোজা না রাখার অনুমতি

গর্ভবতী নারীর সন্তান বা নিজের প্রাণ নাশের আশঙ্কা হলে রোজা না রাখা বা ভঙ্গ করা বৈধ। তবে পরে কাজা আদায় করতে হবে। যে সব নারী তার সন্তানকে দুধ পান করান, রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে এবং এতে সন্তানের অসুবিধা হয়, তবে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু পরে অবশ্যই কাযা আদায় করতে হবে। মুসাফির অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে।

বি:দ্র:  আমাদের ইসলামিক পোষ্ট গুলো বিভিন্ন বই ও মাধ্যম হতে সংকলিত । যদি কোন কিছু ভুল পেয়ে থাকেন তবে অবশ্যই জানাবেন । কারন দোলনা হতে কবর পর্যন্ত শিখার অধিকার রয়েছে ।

ইসলামিক পোষ্টগুলো সকলের সাথে শেয়ার করুন । কোন অর্থ পাবার আশায় নয় । শুধুমাত্র ইসলামের প্রচার করার জন্যই আমরা ইসলামিক পোষ্ট করে থাকি । আর এর প্রতিদান আমরা আখিরাতে পেতে চাই ।

Share To Social Site To show your Friend